bartajogot24@gmail.com রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ই ফাল্গুন ১৪৩০

নিস্তেজ ভ্যানচালকের গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত:
২৪ জানুয়ারী ২০২৪, ২১:৪৭

ছবি : সংগৃহীত

পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দিলে নিস্তেজ হয়ে যায় ভ্যান চালক মানিকুল। পরে পেট থেকে ছুরি বের করে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। গভীর রাতে নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করে সিরাজুল নামে তারই এক বন্ধু।

বুধবার (২৪জানুয়ারি) বিকাল ৫টায় বর্বরোচিত এ হত্যাকান্ড, থানা পুলিশের অভিযান, হত্যার রহস্য উদঘাটন, আলামত উদ্ধার ও আসামী গ্রেফতার সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন লালমনিরহাট জেলা পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম। এসময় জেলা পুলিশের উর্ধবতন কর্তা ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৯ জানুয়ারি জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের রমনীগঞ্জ গ্রামে ভুট্টাক্ষেত থেকে মস্তক বিহীন একটি মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যাকান্ডে সিআইডি ক্রাইম সিন টিম আলামত সংগ্রহ করে এবং ব্যক্তির পরিচয় সনাক্ত করে।

পরদিন ২০জানুয়ারি দেহ হতে বিছিন্ন করা মাথা মাটির তল হতে উদ্ধার, আসামীর হত্যা কাজে ব্যবহৃত ছুরি, ভিকটিমের মোবাইল ফোন, ভিকটিমের পরিহিত জ্যাকেট উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে ঘটনার সাথে জড়িত আসামী সিরাজুল ইসলামকে (৩৬) গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) শীতের সকালে বাড়ি থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে পালানোর সময় সিরাজুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সিরাজুল একই উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের আসের মাহমুদ এর ছেলে।

পুলিশ সুপার বলেন, মানিকুল ইসলাম ছোটকাল হতে ভ্যান চালাত। ভ্যান চালানোর সুবাদে অন্য ভ্যান চালাক বাবলু ও সিরাজুলের সাথে তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মানিকুল ও সিরাজুল মিলে বন্ধু বাবুলের ভ্যান চুরি করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতে, মানিকুল ভ্যান চালাক বাবলুকে কৌশলে হোটেলে চা খাওয়ার জন্য নিয়ে যায়। আর আসামী সিরাজুল গোপনে বাবলুর ভ্যানটি সরিয়ে ফেলে। তখন বাবলু মানিকুলকে সন্দেহ করে এবং মানিকুলের ভ্যানটি নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দুলু মিয়ার কাছে জমা দেয়।

তখন চেয়ারম্যান মানিকুলকে বলে, বাবলুর ভ্যান বের করে তার ভ্যানটি নিয়ে যেতে। পরদিন আসামী সিরাজুল, বাবলুর হারিয়ে যাওয়া ভ্যান গাড়ীটি নিয়ে এসে চেয়ারম্যানের নিকট জমা দেয়। কিন্তু চুরি হওয়া বাবলুর ভ্যান গাড়ীটি মানিকুলসহ উদ্ধার করা হলেও চেয়ারম্যানের নিকট জমা দেওয়ার পূর্ব মুহুর্তে মানিকুল কৌশলে ভ্যান হতে নেমে পালিয়ে যায়। ফলে আসামী সিরাজুলকেই চোরের অপবাদ বয়ে বেড়াতে হয়।

চোরের বদনাম ঘোচানোর জন্য সিরাজুল মানিকুলকে চেয়ারম্যানের কাছে হাজির করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে সিরাজুল ক্ষিপ্ত হয়ে কৌশলে মানিকুলকে ১৮ জানুয়ারি রাতে চায়ের সাথে ঘুমের ঔষধ খাওয়ায়। পরে ঘুম ঘুম ভাব হলে তাকে বড়খাতা রমনীগঞ্জ নামক স্থানের গ্রাম্য রাস্তার দুই পাশে ভুট্টাক্ষেত এমন নির্জন যায়গায় নিয়ে যায়। পরে সেখানে রাত ১২টার দিকে প্রথমে মানিকুলের পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়, পরে নিস্তেজ হয়ে মাটিতে লুটে পড়লে পেট থেকে ছুরি বের করে গলা কেটে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে বন্ধু সিরাজুল। এরপর বিছিন্ন মাথা, মোবাইল, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছোরা, রক্তমাখা জ্যাকেট ১ কি.মি. দূরে দালালপাড়া নামক স্থানে নিয়ে গর্ত খুড়ে পুতে রাখে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর