bartajogot24@gmail.com রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ই ফাল্গুন ১৪৩০

প্রাথমিকে বৈষম্য ও মান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:
১৩ জানুয়ারী ২০২৪, ২০:৫৬

ছবি : সংগৃহীত

প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সকল ধরনের বৈষ্যম এবং শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে করার জন্য জোর দিচ্ছে বর্তমান সরকার। ধাপে ধাপে প্রাথমিক শিক্ষাকে অনেক দুর এগিয়ে নিয়েছেন তারা।

পূর্বে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্ন্টেন স্কুলের মধ্যেই অনেক পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। কারন আগে প্রাথমিকে এবং কিন্ডারগার্ন্টেন স্কুলে ভিন্ন ভিন্ন বই ছিলো। এখন প্রাথমিক পর্যায় সকল স্কুলে একই রকমের বই পড়াতে হয়। অথাৎ কিন্ডারগার্ন্টেন স্কুলে ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিলেবাস অনুসারে পড়াতে হয়।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বইগুলো কিন্ডারগার্টেনেও পড়াতে হচ্ছে।
এতে কিন্ডারগার্ন্টেন ও প্রাথমিকে এর মধ্যে যে বৈষম্য ছিলো তা কমে এসেছে। সরকার এখন শিক্ষা ব্যবস্থাকে আর্šÍজাতিক মানের করার জন্য জোর দিচ্ছে। এ জন্য শিক্ষায় নতুন কারিকুলাম যোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গত ৩১ডিসেম্বর তাঁর কার্যালয়ের শাপলা হলে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে বই বিতরণের মাধ্যমে ২০২৪ সালের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে বলেন, সরকার বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।

তিনি বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে যত টাকা লাগে আমি দেব। বিশ্বে যত নামিদামি বিশ^বিদ্যালয় রয়েছে, তারা কিভাবে শিক্ষা দেয়, কি কারিকুলাম শিখায় সেই পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা সেরকম আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থায় বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে সরকার শিক্ষাকে বৈষম্য ও আন্তর্জাতিক মানের করতে চাচ্ছে, এগিয়ে যাচ্ছে সে ভাবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১০ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার ছিলো শতকরা ৩৮ দশমিক ৪শতাংশ এবং ২০১৫ সালে যা ছিলো ২০ দশমিক ৪ শতাংশ ও ২০২২ সালে যা দাড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে শিক্ষার মান উন্নত করার জন্য সরকার কত দ্রুত কাজ করে চলছে। শুধু তাই নয় সরকার প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হতো উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় শিক্ষিতদের এখন প্রাথমিক শিক্ষক মানে উচ্চ শিক্ষিত।

এ ছাড়া ২০১৮সালে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গড় অনুপাত ছিলো ৩৭:১।অথাৎ ৩৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১জন শিক্ষক। ২০২২ সালে যা করা হয়েছে ৩৩:১ যার মানে ৩৩জন শিক্ষার্থীর জন্য ১জন শিক্ষক। এর মানে হচ্ছে প্রতি বছরই শিক্ষার মান বাড়ানো জন্য সরকার কাজ করছে। প্রাথমিকে শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য সরকার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া থেকে শুরু করে স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন সহ বিভিন্ন রকমের মান উন্নয়ন করা হচ্ছে।

প্রাথমিকে শিক্ষায় বৈষম্য দূর করা জন্য ২০২৩সালেই প্রায় ১ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ বিদ্যালয়গুলোতে ৬ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী নতুন ও আকর্ষণীয় শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণের সুবিধা পাবে। অন্যদিকে রাজধানীতে অত্যাধুনিক ডিজাইনে ২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন স্থাপন করতে যাচ্ছে।

যার ফলে শহরের কিন্ডারগার্ন্টেন ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে পার্থক্য অনেকাংশ কমে আসবে এবং শিক্ষার মান বাড়বে। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জীবন যাত্রার মান উন্নত হবে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর