bartajogot24@gmail.com রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ই ফাল্গুন ১৪৩০

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্মিলিত অংশগ্রহণ, নিশ্চিত করবে এসডিজি অর্জন

মনিরুল ইসলাম ফরাজী

প্রকাশিত:
৪ ডিসেম্বার ২০২৩, ১৮:৪৫

ছবি: সংগৃহীত

৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্মিলিত অংশগ্রহণ, নিশ্চিত করবে এসডিজি অর্জন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে ৩২তম আন্তর্জাতিক ও ২৫তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর চিরন্তন মর্যাদা, মূল্য ও সমান অধিকার আদায়ে জাতিসংঘ ১৯৯২ সাল থেকে ৩ ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস’ পালন করে আসছে।

সমাজসেবা অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী দেশে ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ কোন না কোন ভাবে শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধিতার স্বীকার। প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে আছে বিশাল জনগোষ্ঠী। দেশের এই ১০ শতাংশ মানুষের জীবন মানের উন্নয়নে পূনর্বাসন সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের স্ব-নির্ভর করা ব্যতীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অকল্পনীয়। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক মুক্তি লাভের সকল পন্থাই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নের সাথে ওতোপ্রতো ভাবে জড়িয়ে আছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ের সর্বস্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাও আজ সময়ের দাবি।  

ব্যক্তিভেদে ভিন্নতার সৃষ্টি মানবজাতির অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট। বাহ্যিক কিংবা আভ্যন্তরীণ; যেকোন পরিবর্তণ ব্যক্তিকে একে অপরের চেয়ে আলাদা করে তোলে। তবে সেই পরিবর্তণ যখন কারও দৈনন্দিন জীবনকে বাঁধাগ্রস্থ করে তখন নেমে আসে প্রতিবন্ধিতা। শাব্দিক ও বৈজ্ঞানিক অর্থে তাদের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও প্রতিবন্ধিতা কি শুধুই শারীরিক বা মানসিক নাকি আপাত দৃষ্টিতে সুস্থ সবল মানুষের চেতন কিংবা অবচেতন মনে গড়ে ওঠা অপরকে দমিত করার চিন্তাও সংযুক্ত করা যায় সেটাও আজ নতুন করে ভাবনার বিষয়। মনে রাখতে হবে, জন্মগত, দূর্ঘটনা বা অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয়, কারন প্রত্যেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শারীরিক ও মানসিক উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা অর্থাৎ স্বনির্ভরতার মাধ্যমে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব, যা দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই সমাজ, দেশ তথা বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য সহানুভূতি নয়, চাই সহমর্মিতা।

এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অসমতা দূরীকরণ, প্রবেশাধিকার, নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। এ লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে হলে প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা। কেবল হাতে কলমে পাশ কৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সনদ (সিআরপিডি) অথবা ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩’ নয়, বরং এর বাস্তবিক প্রয়োগ ও টেকসই জীবনধারা, মানবাধিকার, , শান্তি ও সব ধরনের বৈষম্য দূরীভূত করাও হোক আমাদের সংস্কৃতির চর্চার অভেদ্য অংশ। অন্যথায় মনশ্চক্ষুর আড়ালে উন্নয়ন নামক সোনার হরিণ হতে পারে ফাঁপা গোলক ধাঁধা।

লেখিকা : অনিকা তাবাসসুম অন্তরা


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর